Brand কি এবং কেন জরুরি?

ব্র্যান্ড” (Brand) শব্দটির সাথে আপনি/ আমরা হয়তো কমবেশি পরিচিত। ব্র্যান্ড বলতে এমন কোন নাম, শব্দ, ডিজাইন, প্রতীক বা অন্য কোন ফিচার বোঝায় যা কোন একজন বিক্রেতার পণ্য বা সেবাকে অন্যান্য পণ্য বা সেবা থেকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে উপস্থাপন করে |অর্থাৎ এটি মূলত বাজারে আপনার প্রোডাক্ট বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নিজস্ব জায়গা তৈরি করে।

Brand কি এবং কেন জরুরি?

ব্র্যান্ডিং কি এবং কেন জরুরী এবং কি করে একটি পেজের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানো যায়

ব্র্যান্ডিং মানে শুধু প্রতিষ্ঠান বা প্রোডাক্টের লোগো বা নামকে চেনানো নয়। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রতিনিয়ত আপনার চোখের সামনে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন আসে। সামাজিক মেলামেশাতেও অনেক প্রোডাক্টের নাম শুনে থাকেন আপনি। এগুলো ব্র্যান্ডিংয়ের মধ্যে পড়ে। এছাড়া প্রোডাক্ট প্যাকেজিংয়ের ধরন বা প্রোডাক্ট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও ব্র্যান্ডিং।

একটা উদাহরণ দেয়া যাক। আপনাকে কয়েকটি সাবানের ব্র্যান্ডের নাম বলতে বলা হলে এর মধ্যে ‘লাক্স’ সাবানের নাম থাকার সম্ভাবনা অনেক। আবার আপনি জানেন যে, এর সাথে ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষার সম্পর্ক রয়েছে। এ ধারণাটি লাক্স সাবানের ব্র্যান্ডিংয়ের একটি অংশ।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কেন ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য বড় আকারের বিনিয়োগ করে, তার কয়েকটি কারণ রয়েছে।

ব্র্যান্ডিংয়ের গুরুত্ব

১. ব্র্যান্ডিং আপনার পণ্য বা প্রতিষ্ঠানকে মানুষের মধ্যে আলাদাভাবে পরিচিত করে।

একজন মানুষের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকে। তার আচার-আচরণ, পছন্দ-অপছন্দ, জামাকাপড়ের ধরন, বন্ধুবান্ধব, কাজ ইত্যাদির মাধ্যমে তার একটি স্বকীয় পরিচয় আমাদের মাঝে তৈরি হয়। একটি পণ্য বা প্রতিষ্ঠানেরও এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি একে চিনতে পারেন।

২. ব্র্যান্ডিং ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় আপনার পণ্য বা প্রতিষ্ঠানকে আলাদা অবস্থান দেয়।

বাজারে একই ধরনের বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়। কিন্তু যেসব পণ্যের ব্যাপারে মানুষের ইতিবাচক ধারণা বেশি, সেগুলোর বিক্রির হারও বেশি। যেমন, জুতার বাজারে ‘বাটা’ ব্র্যান্ডের আলাদা কদর রয়েছে।

৩. কাস্টমারদের সাথে আপনার পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের একটি সম্পর্ক তৈরি হয় ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে।

শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এটা সত্যি! কোন পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং ভালো হলে কাস্টমারদের আস্থা অর্জন করা সহজ হয়। এতে করে তারা বারবার আপনার পণ্যের কাছেই ফিরে আসবে।

৪. প্রতিষ্ঠানে ভালো কর্মী আকৃষ্ট করতে আপনাকে সহায়তা করে ব্র্যান্ডিং।

ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে আপনার পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের একটি সামাজিক মূল্য তৈরি হয়। এর মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। যেমন, মাইক্রোসফট বা গুগলের কথা ধরা যাক। ব্র্যান্ড হিসাবে তাদের পরিচিতি এত ভালো যে পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষ ও মেধাবী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারদের স্বপ্ন থাকে এ কোম্পানিগুলোতে কাজ করার।

ব্র্যান্ড আক্ষরিক অর্থেই আমাদের পছন্দকে বদলে দিতে পারে।

Brandin এর ধাপ সমূহঃ

স্ট্রাটেজি :

আমাদের দেশে অনেকেই তার প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর মার্কেটিং স্ট্রাটেজি তৈরী নিয়ে কনফিউশনের মধ্যে থাকেন।একটি কার্যকরী মার্কেটিং স্ট্রাটেজির চারটি মূল নীতি আছে এবং এগুলোর উপর একটি প্রতিষ্ঠান লাভজনক হচ্ছে কিনা তা অনেকাংশে নির্ভর করে। নীতিগুলো হলো -

1. Specialization বা বিশেষীকরণ

আমরা অনেক সময়ই মনে করি একই সাথে অনেক ধরনের কাস্টমারকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বা সেবা দিয়ে এক সাথে টার্গেট করলে ব্যবসা তাড়াতাড়ি লাভজনক করা যাবে। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা ঠিক তার উল্টা।আপনি যদি একটা মার্কেটের সকল কাস্টমাররের কাছে আপনার পণ্য বা সেবা নিয়ে পৌছাতে চান তাহলে কাউকেই আপনি ঠিকভাবে সন্তুষ্ট করতে পারবেন না। আপনাকে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আপনার পণ্য বা সেবা নিয়ে মার্কেটের ঠিক কোন জায়গায় আপনি বিশেষজ্ঞ হবে।|উদহারণসরূপ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আজকেরডিল সারা বাংলাদেশ জুড়ে সেইসব কাস্টমারদেরকে টার্গেট করছে যারা কম টাকায় অনলাইন একটি মার্কেটপ্লেস থেকে পণ্য কিনতে চায় যা কিনা তারা যে জায়গায় থাকে সেখানে সহজলভ্য নয়।

2. Differentiation বা পৃথকীকরণ

পৃথকীকরণ হলো কার্যকর মার্কেটিং স্ট্রাটেজি গড়ার পথে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।বলুনতো আপনার পণ্য বা সেবার মুল্য কে ঠিক করে? আপনার নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে আপনি বা আপনার প্রতিষ্ঠান করে! ভুল, মূল্য ঠিক করে আপনার প্রতিদ্বন্দী পণ্য বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।তাই আপনার সম্পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কে।কেন আপনার আদর্শ কাস্টমার আপনার কাছ থেকে না কিনে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কিনেছে? তারা আপনার থেকে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী দের কাছ থেকে কি উচ্চ মান পাচ্ছে এবং আপনি তাদের এই উপলব্ধি পরিবর্তনের জন্য কি করতে পারেন?

আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসাযিক সাফল্যের জন্য আপনাকে আপনার প্রতিদ্বন্দীদের দেয়া পণ্য বা সেবার মান থেকে ভালো এবং সম্পূর্ণ পৃথক সমাধান দিতে হবে কাস্টমারদের প্রয়োজন বা সমস্যার।এবং তা নিশ্চিত করার জন্য আপনাকে আপনার টার্গেট কাস্টমারদের সম্পর্কে সব কিছু জানতে হবে — তারা কে , তারা কি করে, তাদেরকে আপনার কাস্টমার বানাতে হলে কি করা লাগবে ইত্যাদি।

উদাহরণসরূপ মার্কেটে যখন ব্ল্যাকবেরি মোবাইল সেট বের হলো তখন স্টিভ জবস তার প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ারদের ডেকে নিয়ে বললেন — আমি এমন একটি অ্যাপল ব্রান্ডের মোবাইল ফোনে বানাতে চাই যা কিনা একটি বাটন দিয়ে চালু বা বন্ধ হবে, এছাড়াও সব ধরনের কাজ করা যাবে এবং খুব সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে।ইঞ্জিনিয়াররা বলল এই ধরনের কোন ফোন তৈরী করা সম্ভব না, কিন্তু স্টিভ জবস লেগে থাকলেন, এবং তার ফলে সর্বপ্রথম এক বাটনের টাচস্ক্রিন যুক্ত অ্যাপল মোবাইল ফোন মার্কেটে আসলো| বাকি ইতিহাস আমাদের প্রায় সবারই জানা।

মানুষের ব্যস্ততা আর সময় স্বল্পতার কারণে ইট-পাথরের তৈরি দোকানগুলোর চেয়ে প্রযুক্তি নির্ভর অনলাইন দোকান অর্থাৎ ই-কমার্স সাইট গুলোতে মানুষের উপস্থিতি বেশী। তাই ই-কমার্স ব্যবসার জনপ্রিয়তা উত্তোরত্তর বেড়েই চলেছে।

ভ্যালু :

ব্যবসায় সফলতা নির্ভর করে উত্তম ক্রেতা ভ্যালু সরবরাহ করার উপর। মার্কেটিং এর অন্যতম প্রধান কাজ হলো ক্রেতা ভ্যালু তৈরি ও প্রদান করা। সর্বোচ্চ ক্রেতা ভ্যালু প্রদান করতে পারলে ক্রেতা সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাবে। ক্রেতা ভ্যালু কি? পণ্য বা সেবা গ্রহণ করে যে সুবিধা পায় এবং তার বিনিময় যে অর্থ ব্যয় করে এ দুইয়ের পার্থক্যকে ক্রেতা ভ্যালু(Customer Value) বলে। সুবিধার থেকে খরচ কম হলে ভ্যালু বৃদ্ধি পায়।এখানে, সুবিধা হলো কার্যভিত্তিক সুবিধা এবং আবেগময়ী সুবিধা। আর ব্যয় হলো অর্থ ব্যয়, সময় ব্যয়, শ্রম ব্যয় ইত্যাদি।

ট্রাস্ট বা বিশ্বাস কি :

ট্রাস্ট হচ্ছে মূলত ভরসা বা বিশ্বাসের জায়গা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে ধরুণ আপনি একটি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। তাহলে আপনার বিম্বাস বা ভরসার জায়গা হবে, আপনার কর্ ও আপনার ক্লাইন্ট। অর্থাৎ আপনার কোম্পানিকে এমন স্থানে নিয়ে যেতে হবে যাতে করে আপনার ক্লাইন্ট আপনার কোম্পানিকে ভরসা করে, বিশ্বাস ও আস্থা রাখে আপনার ব্র্যান্ড তথা আইডেন্টিটির উপর।

আইডেন্টিটি :

আপনি ব্র্যান্ড তৈরি করলেন, প্ল্যান করলেন আপনি কোন গ্রুপ এর মানুষ এর কাছে আপনার ব্র্যান্ড তুলে ধরবেন, তাহলে তো আপনাকে প্রচার করতে হবে, আপনাকে আপনার কোম্পানি অথবা প্রোডাক্টকে মার্কেট এ, জনগনের মধ্যে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে, এর নাম ই হচ্ছে আইডেন্টিটি।

লোগো ::

লোগো একটি গ্রাফিক্স চিহ্ন বা প্রতীক যা দারা কোন কোম্পানিকে বা প্রতিষ্ঠানকে ফুটিয়ে তোলা হয়।

লোগো একটা ব্যান্ড এর পরিচয়,লোগোর মাধ্যমে দর্শক বুঝবে সেই কোম্পানিটা কি ধরনের, তার কাজ কি।

একটা সুন্দর লোগোতে সবসময় একটা মেসেজ থাকতে হয়, যেমন কোম্পানি কি করতে চায় সেটা একটা সিম্বল এর মাধ্যমে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে। লোগো তৈরী করা সহজ ব্যাপার না। কিছু শেপ কালার আর ফ্রন্ট দিয়ে একটা ডিজাইন করলেই লোগো ডিজাইন হয়ে যায় না। লোগো একটা ব্যান্ড এর পরিচয় তাই ডিজাইন এ টেকনিকাল দক্ষতার পাশাপাশি আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে।

বিজ্ঞাপন : বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য ও সেবা কিংবা নতুন ধারণা সম্পর্কে ভোক্তা বা ব্যবহারকারী সকলকে জানানোর একটি ব্যবস্থা বিজ্ঞাপন । এটি শুধু জানানোতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, সম্ভাব্য ক্রেতা বা ব্যবহারকারীদের কাছে এসবকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করে, সেগুলো ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ, এমনকি কখনো কখনো প্ররোচিত করে। আর এই কাজটি করে থাকে বিক্রেতা তথা উৎপাদনকারী নিজে, তার প্রতিনিধি কিংবা বিপণনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি।

যে মাধ্যমেই বিজ্ঞাপন প্রচার হোক, এর জন্য বিজ্ঞাপনদাতাকে ব্যয় বহন করতে হয়। বিজ্ঞাপনের ধরন নির্বাচন, তার জন্য কথা বা ছবি সাজানো এবং তার উপস্থাপনা, প্রকাশনা, প্রচারণা ইত্যাদি অতীতে ব্যক্তিগতভাবে বা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নিজ স্থাপনা ও জনবলের সাহায্যে সম্পাদিত হলেও এখন এসব একটি সুসংগঠিত পেশার কাজ এবং এসবের জন্য আছে ছোট বড় বিভিন্ন বিশেষায়িত বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান।

মার্কেটিং:

আমরা বেশীরভাগ মানুষ মার্কেটিং নিয়ে একটা ভুল ধারণা রাখি। আর সেটা হচ্ছে মার্কেটিং মানেই হচ্ছে প্রসার, যত বেশী মানুষের কাছে যত বেশী পণ্য প্রসার করা যায় সেটাই হচ্ছে মার্কেটিং। মূলত মার্কেটিং তা নয়। অবশ্যই মার্কেটিং এ প্রচার এবং প্রসার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তবে আপনি ডিজিটাল বা ট্রেডিশনাল মার্কেটিং করুন, একজন মার্কেটার হিসাবে আপনার দ্বায়িত্ব হচ্ছে যথাযথ রিসার্চ, এনালাইসিস করে সঠিক মানুষের কাছে সঠিকভাবে আপনার পণ্যের প্রচার এবং প্রসার করা।

আর এই কাজটা শুরু হয় মূলত কোন একটি পণ্য বাজারে বা মার্কেটে আসার পরে নয় বরং আগে থেকে। রিসার্চ করে দেখতে হয় আদো মার্কেটে পণ্যটির চাহিদা আছে কিনা, থাকলে কি রকম চাহিদা, কতজন পণ্যটা কিনতে পারে, কারা বর্তমানে একই ধরণের পণ্য দিচ্ছে, কিভাবে দিচ্ছে, মার্কেটে কিসের ঘাটতি রয়েছে যা দিয়ে আপনি আপনার কম্পটিটিটরদের পিছনে ফেলে আপনার কাস্টমারকে বোঝাতে সক্ষম হবেন যে আপনার পণ্য বা সেবাটিই হচ্ছে তাদের জন্য উপযুক্ত।

“ব্র্যান্ডিং” এবং ই-কমার্স ব্যবসায় ব্র্যান্ডিং এর পরিধি ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করবো ।

প্রথম অংশে থাকছে – কিভাবে একটি ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে হয়।

দ্বিতীয় অংশে থাকছে – নতুন উদ্যোক্তা এবং নিযুক্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডিং এর গুরুত্ব।

এবং শেষ অংশে থাকছে – ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে আপনি কী কী কৌশল অবলম্বন করবেন।

কিভাবে একটি ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে হয়

ব্র্যান্ডিং কি? ব্র্যান্ডিং হল কাস্টমারের কাছে আপনার প্রতিশ্রুতি। হাজারো প্রোডাক্ট ও সার্ভিস এর মধ্যে কাস্টমার কেন আপনার ই-কমার্স সাইট থেকে প্রোডাক্ট ক্রয় করবে তা নির্ভর করে আপনার ব্র্যান্ডিং এর উপর। প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে আপনাকে এগিয়ে রাখতে ও কাস্টমারদের নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে ব্র্যান্ডিং অপরিহার্য।

ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার যাত্রাটা খুব একটা সহজ নয়। অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে, অনেকটা সময় বিনিয়োগ করে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে ব্র্যান্ডকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়।

আপনার ই কমার্স বিজনেস টিকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এই কৌশলগুলো অবলম্বন করুন –

১. প্রথমে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সুন্দর রং ও ডিজাইন সম্বলিত লোগো তৈরি করুন। অনেক সময় আমরা কোম্পানীর নাম না দেখে শুধু লোগো দেখে বুঝে যাই যে পণ্য কোন প্রতিষ্ঠানের। লোগো যে খুব আহামরি কিছু হতে হবে এমন নয় । কিন্তু এমন একটি লোগো তৈরী করুন যেটা দেখে সহজেই কাস্টমার আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করতে পারে ।

২. লোগোর রং এর সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখে আপনার ই-কমার্স ব্যবসার জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, সহজে ব্যবহারযোগ্য ও মানসম্মত একটি ওয়েবসাইট তৈরী করুন।

ই-কমার্স ওয়েব সাইটের কিছু অত্যাবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য থাকে যেমন – কার্ড ম্যানেজমেন্ট, অর্ডার ম্যানেজমেন্ট, কাস্টমার ম্যানেজমেন্ট, প্রমোশন বা অফার ম্যানেজমেন্ট । এগুলো তে নজর দিন।

৩. আপনার ওয়েবসাইট এ প্রথমেই সব কিছু সেল করার চেষ্টা না করে সুনির্দিষ্ট কিছু পণ্য সেল করুন। যেমন: রকমারি। তারা কিন্তু প্রথমে শুধু মাত্র বই বিক্রি করতো। বর্তমানে বই এর পাশা পাশি তারা অন্যান্য পণ্যও সেল করে।

৪. সঠিক মাধ্যমে আপনার ই কমার্স ওয়েবসাইটের সঠিক প্রচারণা চালান যাতে সবাই আপনার পণ্য সম্পর্কে জানতে পারে। এজন্য বেছে নিতে পারেন ফেসবুক মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, এসএমএস মার্কেটিং ।

৫. ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে পণ্যের মোড়কের ভূমিকাও একেবারে কম নয়। সুন্দর মোড়কে, গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠে। তাই চেষ্টা করুন পণ্যের মোড়কে একটু বৈচিত্র আনতে। খুব সহজেই কাস্টমারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন।

৬. সর্বদা পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখুন। কথায় এবং কাজে এক থাকুন। আপনার মনে হবে আপনি লাভ করতে পারছেন না বা লস হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে গুণগত মান সম্পন্ন পণ্য আপনার ব্যবসা টিকিয়ে রাখবে।

৭. কাস্টমার সার্ভিস হল ই কমার্স বিজনেসের প্রাণ। একটি ই কমার্স বিজনেস কতদুর সফল হবে সেটি নির্ভর করে কাস্টমার সার্ভিস কোয়ালিটির উপর। তাই চেষ্টা করুন একটু এক্সট্রা সার্ভিস দিতে।

Zappos এর নাম শুনেছেন? তারা তাদের ব্যবসায় বিশ্বজোড়া খ্যাতি লাভ করেছে শুধুমাত্র তাদের কাস্টমার সার্ভিস এর কারনে।

নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডিং এর গুরুত্ব

খুব স্বল্প পরিসরে আপনি হয়ত ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন, ভাবছেন প্রাথমিকভাবে ব্র্যান্ডিং আপনার ব্যবসার জন্য কতটুকু সহায়ক হবে বা আদৌ এর প্রয়োজন রয়েছে কিনা, অথবা হয়তো আপনি ইতিমধ্যে ই-কমার্স ব্যবসার সাথে যুক্ত আছেন, কিন্তু সফলতার মুখ দেখা হয়ে ওঠেনি এখনো।

ব্যবসায় সফল হওয়ার অনেক কারণ হয়ত যাচাই করছেন, কখনো কি অবসরে ভেবে দেখেছেন যে আপনার ব্র্যান্ডিং সঠিকভাবে করা হয়েছিল কিনা।

বাজারে বহু কোম্পানির মিনারেল ওয়াটার বোতলজাত করে বিক্রি হয়ে থাকে। সব বোতলেই রয়েছে সেই একই স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানি, আপনি এত প্রতিষ্ঠানের মাঝে কোন একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মিনারেল ওয়াটার কিনে থাকেন। কেন বলতে পারেন?! উত্তরটা সহজ শুধুমাত্র ব্রান্ডিং এর কারণে।

১. ব্র্যান্ডিং কাস্টমারকে আপনার ই-কমার্স সাইটের পণ্য সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেয়।

২.সঠিকভাবে ও কৌশলগত উপায়ে ব্র্যান্ডিং করা হলে তা আপনার বিক্রয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় বহুলাংশে।

৩. ব্র্যান্ডিং এ সফলতার সাথে সাথে ব্যবসার যেমন উত্তোরত্তর উন্নতি ঘটতে থাকে, ঠিক তেমনি বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ও স্টেকহোল্ডার এমন সফল ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠে।

৪. ব্র্যান্ডের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা আপনার পণ্য নকল করে বাজারজাত করলেও আপনার বিজনেস ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। বরং কাস্টমাররা আসল পণ্য কেনার জন্য আপনার উপর নির্ভর করে। ফলে বেচাকেনা বেড়ে যায়।

৫.আপনি আপনার ব্র্যান্ডকে যেই উচ্চতায় দেখতে চান, সেই অনুযায়ী পণ্যের গুনগত মান ধরে রাখুন এবং প্রোডাক্ট ডেলিভারির প্রতি সময় সচেতন হোন। মানুষ আপনার পণ্য ও সেবার উপর ভরসা রাখতে শুরু করবে।

৬. মানুষ স্বভাবসুলভ কারণেই ব্র্যান্ডের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকে, কারণ ব্র্যান্ড শব্দটার সাথে একটা ভরসা জড়িয়ে থাকে। আপনার পণ্যের সঠিক ব্র্যান্ডিংই পারে আপনাকে হাজারো প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে একটি ভরসার জায়গা হয়ে উঠতে।

৭. আমরা যখন কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ব্যবহার করে উপকৃত হই, তখন গল্পচ্ছলে তা অন্যের কাছে বলে থাকি বা তাকে তা ক্রয়ে উৎসাহিত করে থাকি। এভাবে ব্র্যান্ডিং কাস্টমারকে আপনার ই-কমার্স সাইটের পণ্যের প্রতি অনুরাগী করে তোলে।

৮. যত বেশী মানুষের কাছে আপনার ব্র্যান্ডের নাম পরিচিত হবে, বাজারে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা তত বাড়বে। তাই প্রত্যেক কাস্টমারকেই সর্বোচ্চ সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করুন ।

ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে আপনি কী কী কৌশল অবলম্বন করবেন

কৌশল অবলম্বন সম্পাদন করা কোন সাধারণ কাজে সফলতায় অনন্য হয়ে উঠে। কখনো কখনো প্রায় অসম্ভব কাজও সুপরিকল্পিত ও বুদ্ধি খাটিয়ে করলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হয়। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রকট, সেখানে কৌশল অবলম্বন টিকে থাকা এবং ভালো করার একমাত্র উপায় ।

ছোটবেলায় একটি তৃষ্ণার্ত কাকের কলসি থেকে জল পানের গল্প আমরা কমবেশি সবাই পড়েছি। কলসের তলে পড়ে থাকা অল্প কিছু পানি কাকের পক্ষে কখনোই পান করা সম্ভব হত না, যদি না সে বুদ্ধি খাটিয়ে টুকরো টুকরো নুড়ি ফেলে সেই জলের স্তর উপরে তুলে না আনত।

ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে কৌশল অবলম্বন করতে হবে

১. আপনার ই-কমার্স ব্যবসার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। একটু দীর্ঘ মেয়াদে চিন্তা করুন আগামী তিন বা পাঁচ বছরে আপনি নিজের ব্যবসা কে কোথায় দেখতে চান ।

২. টার্গেট কাস্টমার নির্ধারণ করুন,খুঁজে বের করুন কাদের কাছে আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস পৌঁছে দিতে চান।

৩. মার্কেটিং এর জন্য বাজেট নির্ধারণ করুন । মার্কেটিং হলো একটি বিজনেস এর মূল চালিকা শক্তি। মার্কেটিং ছাড়া আপনি কখনো ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে পারবেন না ।

৪. ঠিক করুন, কোন যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার প্রোডাক্ট এর প্রচারণা করতে চান।

৫. পণ্যের মান বজায় রাখুন। পরিকল্পনা করুন, কিভাবে দ্রুততম সময়ে আপনি গ্রাহকের কাছে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস পৌঁছে দিবেন।

৬. ভার্চুয়াল জগতে যথেষ্ট তথ্য না পেলে কাস্টমার কোন কিছু ক্রয় করতে দ্বিধা করে। তাই কন্টেন্ট মার্কেটিং এর উপর জোর দিন। তথ্যবহুল কিন্তু চিত্তাকর্ষক কন্টেন্ট তাদের সামনে উপস্থাপন করুন।

৭. ইমেইল মার্কেটিং এ গুরুত্ব দিন। অনেকেই এই ব্যাপারটাতে কম গুরুত্ব দেয়, কিন্তু ইমেইল মার্কেটিং এ প্রতি ১ টাকা খরচের বিপরীতে প্রায় ৩২ টাকা রিটার্ন পাওয়া যায়।

৮.কাস্টমারদের অফার, ডিসকাউন্ট ও প্রদান করুন। তাদের কে আপনার প্রোডাক্টের প্রতি আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আয়োজন করুন এবং ভালো সামাজিক উদ্যোগের সাথে আপনার ব্যবসাকে জড়িত করুন।

৯. আপনার ফেসবুক বা গুগল পেজ এ আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস সম্পর্কে কাস্টমারদের রিভিউ নিন। এর ফলে অন্য কাস্টমাররা সহজেই আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং আপনার ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমান সময়ে গড়ে প্রতিদিন একটি করে নতুন ই-কমার্স সাইট তৈরি হচ্ছে । যেহেতু ই-কমার্স বিজনেস ইনভেস্টমেন্ট কম দরকার ও বড় কোন লসের ঝুঁকি থাকে না তাই অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠছে।

সফল রিটেইলার ব্যবসায়ীরাও ই কমার্স বিজনেসের গুরুত্ব উপলব্ধি করে রিটেইল শপের পাশাপাশি ই-কমার্স ব্যবসায় আসছেন । তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাজারে ব্র্যান্ডিং-ই পারে কেবল আপনাকে সকলের মাঝে পরিচিত করে তুলতে।