সফলতা পেতে হলে না বলতে হবে যে বিষয়গুলোকে

কথা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াতে বসবাসরত একজন পিএইচডি গবেষকের সাথেও। তিনি বলছিলেন, ‘সফলতার নেই কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি। একসময় যে কাজ বা প্রাপ্তির জন্য নিজেকে সফল ভাববেন, পরবর্তীতে সেটাকে যে মূল্যহীন মনে হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সফলতা পেতে হলে না বলতে হবে যে বিষয়গুলোকে

সফলতা। ছোট একটি শব্দ। অথচ এর মানে আমরা খুঁজে বেড়াই শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। মাসখানেক আগে এক বন্ধু এবং সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- সফলতার সংজ্ঞা কি? তার সোজাসাপ্টা উত্তর- বছরখানেক আগেও এ সময়টাতে মনে হতো সফল হতে হলে অনেক টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি দরকার। যেটা এখন আর মনে হচ্ছে না। এখন শুধু মনে হয়, আশপাশের মানুষগুলোকে নিয়ে ভালো থাকাটাই সফলতা!

আমার কাছে সফলতা মানে হলো ছোট ছোট লক্ষ্যবিন্দুর সমষ্টি। যেখানে একটা বিন্দুর সাথে আপনি আরেকটা বিন্দু জুড়ে দেবেন। এই লক্ষ্যবিন্দুগুলো জুড়ে দেয়ার পথে আপনার বাধা বিপত্তি আসবেই। এভাবে সফলতা ও ব্যর্থতা দুটোকে সাথে নিয়েই আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রকৃতপক্ষে সফলতা বা ব্যর্থতা কোনোটাই স্থায়ী নয়!’

তাই সবকিছুর আগে জেনে নেয়া প্রয়োজন কোন বিষয়গুলো সফলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং জীবনে সফলতা পেতে হলে কোন বিষয়গুলোকে এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। এখন তাহলে চলো জেনে নেয়া যাক সফলতা পেতে হলে না বলতে হবে যে বিষয়গুলোকে, সেগুলো সম্পর্কে।

অল্পতেই হতাশ হয়ে গেলে জীবনে কখনো সফলতা লাভ করা যায় না। নতুন একটি কাজ করতে গেলে কিংবা কোনো একটি কাজ শুরু করলে এর মধ্যে ভুল হতেই পারে, ফলাফল আশানুরূপ নাই হতে পারে কিন্তু সেজন্য হতাশ হয়ে পড়লে কখনো সামনে এগোনো যায় না। তাই কোনো কিছু শুরু করলে মাঝপথে হতাশ হয়ে সেটা ছেড়ে না দিয়ে সব সময় শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবে। তাহলে দেখবে কোনো একসময় তুমি ঠিকই সেটাতে সফলতা পেয়ে গেছো।

২. একসাথে অনেককিছুর পেছনে ছোটা:
একসাথে অনেককিছুর পেছনে ছুটতে গেলে দেখা যায় শেষপর্যন্ত কোনটাতেই আর সফলতা পাওয়া যায় না। তাই একসাথে অনেক কিছুতে জড়িয়ে না পড়ে প্ল্যান করে একটির পর একটি কাজ করার চেষ্টা করবে। এতে করে একদিকে যেমন তোমার নিজের উপর চাপ অনেক কমে আসবে অন্যদিকে তেমনি তোমার কাজগুলোও ভালোভাবে শেষ হয়ে যাবে।

৩. অতীত নিয়ে বেশি বেশি চিন্তা করা:
সব সময় অতীত নিয়ে চিন্তা করলে, অতীতে কী হয়েছে সেসব ভেবে থেমে থাকলে জীবনে কখনো এগোনো যায় না। জীবনে ব্যর্থতা থাকবেই, খারাপ সময় থাকবেই, কিন্তু সেগুলো নিয়ে সবসময় চিন্তা না করে নিজের উপর ভরসা রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। অতীতের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে কীভাবে ভালো কিছু করা যায় সেই চেষ্টা করবে। তাহলে দেখবে একসময় তুমি সত্যি সত্যিই সফলতার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।

৪. অন্যের কথায় কান দেয়া:
তুমি যখনই ভালো কিছু করতে যাবে তখনই দেখবে কেউ না কেউ সেটাতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করবে, নানা রকম নেগেটিভ কথা বলবে কিন্তু সেসব কথা কখনও কানে নেয়া উচিত হবে না। তাদের কথা শুনে সবকিছু ছেড়ে দিলে তুমি কখনো সফলতার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারবে না। তাই এসব নিয়ে চিন্তা না করে নিজের কাজটা ঠিকভাবে করার চেষ্টা করবে। তাহলে দেখবে একসময় তারা বিরক্ত হয়ে নিজেরাই এসব বলা বন্ধ করে দিবে।

৫.ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করা:
ভবিষ্যতে কী হবে তা আমরা কেউই জানি না। এমনও হতে পারে ভবিষ্যতে তোমার জন্য অনেক ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। আবার এর বিপরীতটাও কিন্তু হতে পারে। ভবিষ্যতের আশায় বসে থাকলে শুধু শুধু তোমার জীবনের মূল্যবান সময়গুলোই নষ্ট হবে, অথচ কাজের কাজ কিছুই হবে না। তাই যারা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সময় নষ্ট করছো তারা ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা না করে আজ থেকেই, এখন থেকেই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার দৌড় শুরু করে দাও।

তুমি যদি এসব বিষয়কে না বলতে পারো, জীবনে চলার পথে এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে পারো, তাহলে দেখবে সফলতা জিনিসটা খুব সহজেই তোমার কাছে ধরা দিবে আর তুমিও হয়ে উঠবে সফল মানুষদের একজন।

Source: https://blog.10minuteschool.com/