এমন কিছু মার্কেটিং কৌশলগুলো যা আপনার অজানা!

বাজারজাতকরণ কৌশল হলো বাজারজাতকরণের এমন একটি প্রক্রিয়া, যা দ্বারা বিভিন্নরকম কৌশল উন্নয়ন করে পরিবর্তনশীল বাজার অবস্থায় কোম্পানীর সম্পদ, সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বৈচিত্র্যায়নের মাধ্যমে কিভাবে আলাদা অবস্থান গ্রহণ করা যায়, তার রূপরেখা তৈরি করে। অর্থাৎ বাজারজাতকরণ কৌশল হলো সম্ভাব্য অথবা প্রকৃত বাজারের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা খুঁজে বের করা ও সম্পদের বণ্টন নিশ্চিতকরত তা সে সুবিধা গ্রহণ করা।

এমন কিছু মার্কেটিং কৌশলগুলো যা আপনার অজানা!

বাজারজাতকরণ কৌশল অবলম্বন যেসকল কৌশল উন্নয়ন করা হয় সেগুলো হলোঃ পণ্য কৌশল, মূল্য কৌশল, বন্টন কৌশল এবং প্রসার কৌশল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক ব্যবসায়ীরা ব্যবসার উন্নতির জন্য কিছু সময় ব্যয় করেনা। তারা জানেনা দৈনন্দিন মার্কেটিং, ওয়েবসাইট বানানো, ই-মেইল পাঠানো, টুইট করা, অ্যাড দেয়া, ল্যান্ডিং পেইজ বানানো, ব্লগিং করা এবং আরও অনেক কিছু। এগুলো করলে ব্যবসার উন্নতি হয়।

মার্কেটিং কৌশলটা একটা সিদ্ধান্ত যা আপনি করবেন, আর এটা দিয়ে অনেক ভাল ফল পাবেন। কৌশলটা হচ্ছে সচেতনতার মূল ভিত্তি, লভ্যাংশ, বিক্রয় বৃদ্ধি, ক্রেতার সাথে অ্যানগেজ থাকা। মার্কেটিং কৌশলটা কোম্পানীর সংস্কৃতি, পণ্য, সার্ভিস এবং দামের প্রদর্শক। এখানে অনেক কিছু ছাড় দিতে হয় সকল কৌশল প্রদর্শনে। কিন্তু এখানে যে সকল কৌশল আছে যা প্রয়োগ করে বছর ধরে প্রায় ১০০ এর মতো ছোট ব্যবসায়িক যারা বিক্রয় বাড়িয়েছে এবং ব্যবসায় তাদের মানসিক সুস্থ্যতা এনেছে।

মার্কেটিং এর প্রধান কৌশল হল টার্গেটেড কাস্টমার নির্ধারণ করা। আপনি কি পরিবেশন করেন তা সবসময় পরিষ্কার ভাবে উত্তর দিতে হবে। যে কোন কৌশল মানে আপনাকে আপনার সম্ভাব্য ক্রেতাকে “না” বলতে হবে, আপনার নিচু মানের কৌশলের কারণে। এটা করতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু এছাড়া কার্যকর মার্কেটিংও করতে পারবেন না।

একটি ভাল লক্ষ্যের দিকে মননিবেশ করা প্রথম দিকে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু এটাতে লেগে থাকুন, অনুসরণ করুন। যদি আপনি মার্কেটিং এ সময় এবং অর্থ ব্যয় করেন কিন্তু ফলাফল মানে, ভাল সেল পান না। তাহলে সমস্যাটা হল আপনি আপনার সার্ভিস কমান নাই। যার ফলে ভাল ফলাফল পাচ্ছেন না। ব্যবসার ধরণটা আপনাকে ছোট করে নির্ধারণ করতে হবে। এভাবে আপানি আপনার সার্ভিসের উপর ভালভাবে ফোকাস করতে পারবেন। এভাবে ভাল ফল পাওয়া যাবে। এমনকি আপনার সকল ব্যবসায়ও এটার ভাল ফল পাবেন।

ক্যাটাগরি হচ্ছে ব্যবসার ধরণ বা বিবরণ যা আপনি কি করেন। কয়েকটি শব্দ বা বাক্য যা আপনার পুরো ব্যবসার বর্ণনা করবে। অনেক ব্যবসায়িক তার কোম্পানির বর্ণনাটা সহজতর করতে পারে না। যার কারণে আপনি কি করেন মানুষ বুঝতে পারে না। এটা মার্কেটিং প্রবৃদ্ধির অন্তরায়। এটা সাধারণ নিয়ম যদি কেউ পরিষ্কার ভাবে বুঝতে না পারে আপনার ক্যাটাগরি, তাহলে ১ মাস না কখনই পরিষ্কার হতে পারবে না।

ক্যাটাগরির সঠিক বর্ণনা মার্কেটিং এ সাহায্য করবে এবং সেল বৃদ্ধিতে প্রভাব পরবে। চিন্তা করুন কি হতে পারে আপনার ক্যাটাগরি। একটি প্রধান ক্যাটাগরি বাহির করুন। প্রধান ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে পারেন নাই, তাহলে ছোট করে ফেলুন ক্যাটাগরি লিস্ট। একটি লেজার নির্দেশ দিয়ে ইস্পাত ভেদ করা যায়। কিন্তু লক্ষ্য স্থির না থাকলে কোন প্রভাবই পরবে না। লেজারটা মনে করেন আপনার ফোকাস।

যখন কেউ কিনতে চায় তখন সে খুব সহজেই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে আপনার পণ্যের তুলনা করে। তবে অনেক উদ্যোক্তাই জানেনা যে তাদের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী কারা এবং তাদের ম্যাসেজ ফোকাস করে না। ক্রেতাকে পরিষ্কার বর্ণনা/পার্থক্য উল্লেখ করে না। আপনার নিজের মনে অবশ্যই পরিষ্কার থাকতে হবে যে কে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কে। যদি আপনি একজন অ্যাকাউনটেনট হন তাহলে নিজের শহরে কি অন্য আকাউনটেন্ট আছে?

যখন আপনি কাম্পিটিটর নির্ধারণ করে ফেলবেন তখন একটা লিস্ট করবেন। আপনি যা করেন, অন্যদের থেকে কতটুকু ভাল। তারপর লিস্ট টা রেংক করবেন যা টার্গেটেড কাস্টমারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম থেকে ১ টা অথবা ২ টা নিয়ে হোমপেইজ এ শো করবেন।
বেশী কমপ্লিকেটিং করবেন না। ক্রেতা সিদ্ধান্তের জন্য ১টা অথবা ২টা ব্যাপার চায়। এটা কি চিপার? আপনার কি দ্রুত ডেলিভারি আছে? ভাল সার্ভিস? আপনি একমাত্র যে একচেটিয়া ভাবে সার্ভিস দিচ্ছেন?

ফেসবুক, টুইটার এবং ইউটিউব পর্যাপ্ত পরিমান অবকাঠামো এবং পটভূমি তৈরির সুযোগ দিয়ে রেখেছে। সাইটগুলোর মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দিতে পারবেন আপনি কে এবং কী করেন। এমনকি যদি ব্যক্তিগত ব্যবহারেও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম গুলোতে অবস্থান করেন, আপনি কী করেন তা বন্ধুদেরকে মনে করিয়ে দেয়ার সুযোগটি কেন হাতছাড়া করবেন? প্রোফাইলের কভার ফটোতে প্রিয় পোষা প্রানীর বদলে কোম্পানির লোগো সংবলিত একটি ছবি ঝুলিয়ে দিন।

মনে রাখতে হবে, সব ধরনের কাজ করে সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা না করাই ভালো, এতে করে কোন একক কাজ ভাল ভাবে না করতে পারা বা নিজের বিশেষ দক্ষতা ফুটে উঠে না। যে কারনে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানের প্রস্তাব, নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে পণ্য উদ্ভাবনের চেষ্টা অথবা কিছু টাকার জন্য পূর্বনির্ধারিত বাজারের বাইরে বিপননের চেষ্টা করা সব সময় ঠিক নয়। যখন এটা করা হয় তখন লক্ষ্য অর্জন ঝুঁকির মুখে পরে এবং আপনি আপনার দলের সদস্যদের, বাজেট এবং সর্বোপরি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অযাচিত বোঝার সৃষ্টি করেন।

উন্নতির পথে আমরা সব সময়ই কৌশলী থাকার চেষ্টা করি। সাধারণত তিন বছরের ব্যবসায়ের পরিকল্পনা তৈরি করার চেষ্টা করুন, তা অনুসরন করার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজন বুঝে তাকে পরিবর্তন করুন। এটা বিশ্বাস করুন যে লক্ষ্য স্থির ছাড়া সকলের কাজের গতি নিরুপনের আর কোন উপায় নেই। যখন প্রতিষ্ঠানের সকলের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকবে তখনি সবাই একসাথে তা অর্জনের জন্য কাজ করতে পারবে।
৯। মনে রাখতে হবে মানুষ মানুষের জন্য কাজ করে প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়

আমারা প্রায়ই বলে থাকি যে কেউ একজন গণ-সংযোগে খুব ভাল দক্ষ। খুব ভাল মানে এই নয় যে সে একটা গণ-সংযোগের এজন্সি খুব ভালভাবে চালাতে পারবে। অন্য সব পেশার ক্ষেত্রে ও এ কথাটা সত্য। ভাল ব্যবসায়িক মন আর সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রে অনন্য দক্ষতাই সফলভাবে ব্যবসায়ের উন্নতির মূলমন্ত্র। সফল ব্যবসায়ের পিছনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলো হলঃ প্রক্রিয়া, মানব ব্যবস্থথাপনা, বিল ও কার্যপ্রণালী। অনেক কর্মদ্দোমী মানুষ ব্যবসায় পরিচালনায় দারুনভাবে ব্যর্থ হয়েছে কেবল মাত্র সম্যক প্রাতিষ্ঠানিক কাজের কথা না ভাবে নিজের দায়িত্বের দিকে সবটুকু মনোযোগ দেবার কারনে।

আপনি যখন আপনার কাজ কে ভালোবাসেন তখন তা আপনার আশেপাশের মানুষের কাছে দৃশ্যমান হয়। কর্মোদ্যম এবং কর্মোদ্দীপনা দেখানো আপনার দলের কঠিন কাজ সহজ করার ও লক্ষ্যে স্থির থাকতে সাহায্য করে, যা আপনাকে কর্মক্ষেত্রে সফল হতে সাহায্য করবে। এর বিপরীতে যে তাঁর কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় সে কর্মক্ষেত্রেও বাঁধার সৃষ্টি করে।

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে যে কোন শিল্পেই নতুনত্ব প্রয়োজন। এটা হতে পারে-নতুন অনুষ্ঠান, নতুন চিন্তা অথবা নতুন প্রক্রিয়া। হয় আপনি এগিয়ে যাবেন অথবা অচল হয়ে যাবেন। তাই আমরা অনবরত কাজ করার নতুন উপায় খুঁজি যা হতে পারে উন্নত পণ্য, আমাদের ক্রেতার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং কাজে আরও পারদর্শী হাওয়া যা শেষপর্যন্ত বিশাল মুনাফার সৃষ্টি করে।

প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অনেক ব্র্যান্ড বাজারজাতকরণকে একটি খরচের উৎস বলে মনে করে। শুরুতে অনেকে এতে খুব একটা খরচ করতে চায় না। যাই হোক, এর ফলে বাজারে পণ্যের ভাল দিকগুলোর ধারণা কম থাকে। এমনকি যে ধারণা নিয়ে তারা পণ্যটি বাজারে আনে যে “তাদের পণ্য এতই সেরা যে এর ক্রেতারা দল বেঁধে তা কিনছে” এ ধারণাও বিপন্ন হয়।

ভোক্তারা পণ্য কেনার বেপারে খুবই সচেতন। তারা সেই পণ্যই কিনতে চান যা তারা ব্যবহার করেছে অথবা যে পণ্য সম্পর্কে কেউ ভালো বলছে। তাই খেয়াল রাখতে হবে যে নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং এর বাজারজাতকরণ যেন সমান গুরুত্ব পায় এবং সাথে সাথে এই নিশ্চয়তা দেয় যে, পণ্যের খুচরা বিক্রি শুরু হলে ভোক্তার যেন তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য হাতের নাগালে পায়।